বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ
তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে সহজ শর্তে ও কম সুদে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই তাদের ঋণ দেওয়া হবে। ঋণ পেতে ব্যবসায়ীও হতে হবে না। জামানতবিহীন এই ঋণ নিতে উদ্যোক্তা যে কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। এর অর্ধেক ৪ থেকে ৭ শতাংশ সুদে এবং বাকি অর্ধেক অনুদান হিসাবে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর আওতায় প্রতি উপজেলায় ১০ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন করা হবে। দেশের উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাবনাময় তরুণ ও তরুণীদের উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তুলতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৮ জেলার ৬৪ উপজেলায় এর কার্যক্রম শুরু হবে। জেলাগুলো হচ্ছে, মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ উদ্যোক্তাকে বাছাই করে অর্থায়ন করা হবে। পরবর্তীতে দেশের অন্য জেলার উপজেলাগুলোতেও এ কর্মসূচি সম্প্রসারিত করা হবে। এর আওতায় প্রতি বছর পাঁচ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন করা হবে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে এক মাস আবেদন করা যাবে।
জানা যায়, নির্বাচিত উদ্যোক্তার চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। এর অর্ধেক ব্যাংক ঋণ ও বাকি অর্ধেক অনুদান হিসাবে দেওয়া হবে। ঋণের বিপরীতে গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার হবে ৪ থেকে ৭ শতাংশ। এজন্য কোনো সহায়ক জামানত দিতে হবে না। অনুদানের বিপরীতে কোনো সুদ দিতে হবে না। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থ সুদবিহীন ঋণে পরিণত হবে। সেক্ষেত্রে ঋণ হিসাবটি প্রচলিত নিয়মে খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত হবে।
আবেদনের শেষ তারিখে যাদের বয়স ২৮ বছর বা তার কম হবে কেবল তারা আবেদন করতে পারবেন। তাকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা হতে হবে। বাস্তবভিত্তিক ব্যবসায়িক ধারণা থাকতে হবে। কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা বা প্রযুক্তিগত সব বৈধ উদ্যোগকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। আবেদন করতে কোনো ফি লাগবে না। নির্ধারিত ফরমের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাজারজাত করতে সহায়তা দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরিফ হোসেন বলেন, একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে তিন থেকে পাঁচজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন। এ হিসাবে এটি কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র হিসাবে তৈরি হবে। এর আওতায় ব্যাংকগুলো তাদের উপজেলাভিত্তিক শাখার মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তা চিহ্নিত করবে। তাদের অর্থায়ন ও অন্যান্য সহায়তা দেবে।